ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশঃ
ত্রৈমাসিক চলনবিলের সময় পত্রিকার প্রিন্ট,অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া  জরুরি  সংবাদকর্মী আবশ্যক। আবেদন করুন- ই-মেইলে onlynews.calo@gmail.com

সরকারের সাহস থাকলে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেখাক: জাতীয় ছাত্রশক্তি

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারের সমালোচনা হবে, তারেক রহমানের নাম ধরেই হবে। কড়া ভাষায় সরকারকে সমালোচনা করব। যদি সরকারের সাহস থাকে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেখাক। যদি গ্রেপ্তার হই তাহলে দিনে দিনে বহু দেনা বাড়বে। সেই দেনা একদিন বাংলাদেশের মানুষ পরিশোধ করবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্রশক্তি কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জাহিদ আহসান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম শেখ মুজিবের মেয়ে (শেখ হাসিনা) আর শহীদ জিয়ার ছেলে (তারেক রহমান) মনে হয় এক হবে না। আমরা চেয়েছিলাম আমরা তাদের এক পাল্লায় মাপবো না। কিন্তু আমরা দেখলাম, যেই পথে শেখ মুজিবের মেয়ে হেঁটেছিল সেই পথে হাঁটার বন্দোবস্ত করছেন শহীদ জিয়ার ছেলে।

অ্যাক্টিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমের মুক্তির দাবি জানিয়ে জাহিদ বলেন, তারেক রহমান ফেসবুকে এসে বলছেন যে কার্টুন প্রচার করেন, আমার বিপক্ষে হলেও করেন। কিন্তু যেই কার্টুনে কোনো রকমের মানহানি নাই, যেই কার্টুনে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, তার জন্য চিফ হুইপ নিজের লোকদের দিয়ে মামলা করিয়ে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করছেন। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা দাবি করছি, হাসান নাসিমকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গ তুলে জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে তেলের এক কৃত্রিম সংকট দেখানো হলো। তেল মজুদ থাকার পরও সরকার এতদিন ধরে নাটক করেছে তেল নাই। নাটক করে বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এক বিশাল খেলা খেলছে তারেক রহমানের সরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা গণতান্ত্রিক সরকার, যেভাবেই হোক আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, আপনাদের কাছে যে জনগণের ম্যান্ডেট আছে সেই ম্যান্ডেটকে আমরা সম্মান করি, এইজন্য আপনাদেরকে আমরা বারবার সতর্ক করছি। আপনারা যেই পথে হাঁটছেন, সেই পথের শেষ পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো। আমরা মনে করি যে বিএনপি যদি খুব দ্রুত তাদের এই রাস্তা ত্যাগ না করে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের মানুষের বিএনপির ওপর বিশ্বাস, আস্থা উঠে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের কাছে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকার কথা, সেখানে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট দেখা দিল। আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে যখন উত্তর চেয়েছি, প্রশাসন বলেছে যে তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ তেল মজুদ আছে। তাহলে কথা হচ্ছে তেলের যদি মজুদ যথেষ্ট থাকে তাহলে এই তেলের দাম বাড়লো কেন?

এই সরকার সিন্ডিকেটের কাছে বারবার পরাজিত হচ্ছে উল্লেখ করে তাহমিদ আল মুদাসসিরবলেন, সরকার ন্যূনতম কোনো যোগ্যতা দেখাতে পারছে না, তাদের অভিজ্ঞতার কোনো বাস্তব প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না যেখানে তারা এই সিন্ডিকেটগুলো থামাতে পেরেছে। উল্টো আমরা দেখতে পাচ্ছি, কে সরকারকে গালি দিল, কে কোন মন্ত্রীকে গালি দিল, সেটার জন্য তারা ধরে ধরে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে থেকে অ্যাক্টিভিস্টদেরকে গুম করছে, জেলে ভরছে। অথচ তারা সিন্ডিকেটদেরকে খুঁজে বের করতে পারে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি খান তালাত মাহমুদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ পাবো, যেখানে মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করবে, সুশৃঙ্খলভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটের মুখে এই জাতিকে পড়তে হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার বিএনপির সরকারকে নিতে হবে, এর সম্পূর্ণ দায়ভার তারেক রহমানের সরকারকে নিতে হবে

নিউজ ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সরকারের সাহস থাকলে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেখাক: জাতীয় ছাত্রশক্তি

আপলোড সময় : ৮ ঘন্টা আগে

জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারের সমালোচনা হবে, তারেক রহমানের নাম ধরেই হবে। কড়া ভাষায় সরকারকে সমালোচনা করব। যদি সরকারের সাহস থাকে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেখাক। যদি গ্রেপ্তার হই তাহলে দিনে দিনে বহু দেনা বাড়বে। সেই দেনা একদিন বাংলাদেশের মানুষ পরিশোধ করবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ছাত্রশক্তি কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জাহিদ আহসান বলেন, আমরা ভেবেছিলাম শেখ মুজিবের মেয়ে (শেখ হাসিনা) আর শহীদ জিয়ার ছেলে (তারেক রহমান) মনে হয় এক হবে না। আমরা চেয়েছিলাম আমরা তাদের এক পাল্লায় মাপবো না। কিন্তু আমরা দেখলাম, যেই পথে শেখ মুজিবের মেয়ে হেঁটেছিল সেই পথে হাঁটার বন্দোবস্ত করছেন শহীদ জিয়ার ছেলে।

অ্যাক্টিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমের মুক্তির দাবি জানিয়ে জাহিদ বলেন, তারেক রহমান ফেসবুকে এসে বলছেন যে কার্টুন প্রচার করেন, আমার বিপক্ষে হলেও করেন। কিন্তু যেই কার্টুনে কোনো রকমের মানহানি নাই, যেই কার্টুনে ব্যঙ্গ করা হয়েছে, তার জন্য চিফ হুইপ নিজের লোকদের দিয়ে মামলা করিয়ে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করছেন। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা দাবি করছি, হাসান নাসিমকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গ তুলে জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে তেলের এক কৃত্রিম সংকট দেখানো হলো। তেল মজুদ থাকার পরও সরকার এতদিন ধরে নাটক করেছে তেল নাই। নাটক করে বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এক বিশাল খেলা খেলছে তারেক রহমানের সরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা গণতান্ত্রিক সরকার, যেভাবেই হোক আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, আপনাদের কাছে যে জনগণের ম্যান্ডেট আছে সেই ম্যান্ডেটকে আমরা সম্মান করি, এইজন্য আপনাদেরকে আমরা বারবার সতর্ক করছি। আপনারা যেই পথে হাঁটছেন, সেই পথের শেষ পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো। আমরা মনে করি যে বিএনপি যদি খুব দ্রুত তাদের এই রাস্তা ত্যাগ না করে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের মানুষের বিএনপির ওপর বিশ্বাস, আস্থা উঠে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের কাছে সর্বনিম্ন ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত থাকার কথা, সেখানে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট দেখা দিল। আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে যখন উত্তর চেয়েছি, প্রশাসন বলেছে যে তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ তেল মজুদ আছে। তাহলে কথা হচ্ছে তেলের যদি মজুদ যথেষ্ট থাকে তাহলে এই তেলের দাম বাড়লো কেন?

এই সরকার সিন্ডিকেটের কাছে বারবার পরাজিত হচ্ছে উল্লেখ করে তাহমিদ আল মুদাসসিরবলেন, সরকার ন্যূনতম কোনো যোগ্যতা দেখাতে পারছে না, তাদের অভিজ্ঞতার কোনো বাস্তব প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না যেখানে তারা এই সিন্ডিকেটগুলো থামাতে পেরেছে। উল্টো আমরা দেখতে পাচ্ছি, কে সরকারকে গালি দিল, কে কোন মন্ত্রীকে গালি দিল, সেটার জন্য তারা ধরে ধরে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে থেকে অ্যাক্টিভিস্টদেরকে গুম করছে, জেলে ভরছে। অথচ তারা সিন্ডিকেটদেরকে খুঁজে বের করতে পারে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি খান তালাত মাহমুদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ পাবো, যেখানে মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করবে, সুশৃঙ্খলভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটের মুখে এই জাতিকে পড়তে হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার বিএনপির সরকারকে নিতে হবে, এর সম্পূর্ণ দায়ভার তারেক রহমানের সরকারকে নিতে হবে