ঢাকা , শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নোটিশঃ
ত্রৈমাসিক চলনবিলের সময় পত্রিকার প্রিন্ট,অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া  জরুরি  সংবাদকর্মী আবশ্যক। আবেদন করুন- ই-মেইলে onlynews.calo@gmail.com

শান্তির পক্ষে বিএনপি, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের আহ্বান ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি কারও সমালোচনা করতে চান না। বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কথা, আমরা শান্তি চাই। বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। কিন্তু কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। দেশের আইন অনুযায়ী সঠিক, সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। সেই তদন্তে যদি বিএনপির কোনো ভূমিকা থাকে, অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা না গেলে জনগণের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ, নারীদের ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’

জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান গতকাল দুপুর আড়াইটায় জনসভায় ভাষণ শুরু করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর পর আমি রাজশাহীতে এসেছি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালে কম্বল বিতরণ এবং গ্রীষ্মকালে নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে হাঁস-ছাগল বিতরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বলেন, রাজশাহীর নাম শুনলেই দুটি বিষয় মানুষের মনে আসে—পদ্মা নদী ও শিক্ষানগরী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—পদ্মা নদীসহ খালগুলোয় আজ পানি নেই এবং শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। তিনি বলেন, পদ্মা, তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্র—যে নদীর কথাই বলা হোক না কেন, পানির অভাবে কৃষি ও জীবনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে চালু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ একসময় দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছিল। পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ প্রকল্প আরও সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে এই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একসময় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার নিজস্ব বাজেট থাকা এ প্রকল্পকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বরেন্দ্র প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে ফের চালু করা হবে, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে।

কৃষি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। উৎপাদন বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এজন্য প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক ও ব্যাংক ঋণসহ সব সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকদের হাতে দেওয়া হবে। এ সময় তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে ঘোষণা দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আম উৎপাদনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এত বড় আম অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো আধুনিক হিমাগার নেই। কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এবং আম সংরক্ষণের জন্য এ অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন করা হবে।

রাজশাহীর আইটি পার্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইটি পার্ক থাকলেও সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আইটি পার্ককে সচল করা হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি ভোকেশনাল ও প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করে তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।

নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা দিলেই চলবে না, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এ লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।

স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিশিরাতের নির্বাচন ও গায়েবি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ। এজন্য সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে যেমন ধর্মের বিভেদ ছিল না, তেমনি দেশ গড়ার সময়ও ধর্ম নয়—বাংলাদেশি পরিচয়ই হবে মুখ্য।

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া দেশ গড়েছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন—এখন আমাদের সবার পালা দেশ গড়ার।’

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোটেক শাহীন শওকত খালেক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, নাটোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, চাঁপাইনাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ আমিনুল ইসলামসহ রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের ধানের প্রার্থীরা।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে তারেক রহমান একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর দরগা শরিফে যান। পৌনে ২টার দিকে তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানসহ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। তারেক রহমান জনসভায় যোগদানের আগেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাদ্রাসা ময়দান পরিপূর্ণ হওয়ার পর জনসভার জনস্রোতে আশপাশের রাস্তায় গড়ায়। আস্তে আস্তে পুরো রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাট জনসাধারণে ভরে যায়।

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাজ হলো আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত এদের দেখে রাখা। ১৩ তারিখ থেকে এরা আপনাদের দেখে রাখবেন।’

রাজশাহীর জনসভা শেষ করে তারেক রহমান বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নওগাঁর পথে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। সেখানে নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ধানের শীষের আট প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না: এটিএম মাঠে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি। বিএনপি আজ এ পর্যায়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

তারেক রহমান বলেন, এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি, এত দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কি হলো? এই ১৭ বছরে উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এ দেশেই থাকব, কাজেই আমাদেরই এ দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে নির্বাচন করা তিন ছাত্রনেতাকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মাদ্রাসা ময়দানের জনসভামঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই তিন ছাত্রদল নেতাকে এ নির্দেশনা দেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন রাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শেখ নুর উদ্দিন আবীর, জিএস পদে নির্বাচন করা নাফিউল জীবন ও এজিএস পদে লড়াই করা জাহিন বিশ্বাস এষা।

তারেক রহমান তাদের বলেন, ‘তোমরা তরুণ ছাত্রসমাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে। মানবিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করবে।’

নওগাঁ থেকে তারেক রহমান যান বগুড়ায়। রাত ৮টার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরও একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জনসভা শেষে বগুড়ার হোটেল নাজ গার্ডেনে যান বিএনপি চেয়ারম্যান।

নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপনের পর আজ শুক্রবার তারেক রহমানের রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিকেল পৌনে ৪টায় রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। রংপুরের জনসভা শেষে তার ফের বগুড়ার নাজ গার্ডেনে যাওয়ার কথা। সেখানে যাত্রীযাপন শেষে আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করবেন। সেখান থেকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে প্রত্যাবর্তনের কথা।

এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে নির্বাচনী প্রচারাভিযান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ১৯টি নির্বাচনী জনসভা করেছেন।

নিউজ ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শান্তির পক্ষে বিএনপি, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্তের আহ্বান ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান

আপলোড সময় : ৮ ঘন্টা আগে

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি কারও সমালোচনা করতে চান না। বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কথা, আমরা শান্তি চাই। বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। কিন্তু কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে। দেশের আইন অনুযায়ী সঠিক, সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। সেই তদন্তে যদি বিএনপির কোনো ভূমিকা থাকে, অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা না গেলে জনগণের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরুজ্জীবন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ, নারীদের ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।’

জনসভায় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী ও জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান গতকাল দুপুর আড়াইটায় জনসভায় ভাষণ শুরু করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর পর আমি রাজশাহীতে এসেছি। সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালে কম্বল বিতরণ এবং গ্রীষ্মকালে নারী ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে হাঁস-ছাগল বিতরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি বলেন, রাজশাহীর নাম শুনলেই দুটি বিষয় মানুষের মনে আসে—পদ্মা নদী ও শিক্ষানগরী। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—পদ্মা নদীসহ খালগুলোয় আজ পানি নেই এবং শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। তিনি বলেন, পদ্মা, তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্র—যে নদীর কথাই বলা হোক না কেন, পানির অভাবে কৃষি ও জীবনব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে চালু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ একসময় দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছিল। পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় এ প্রকল্প আরও সম্প্রসারিত হয়। কিন্তু গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে এই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একসময় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার নিজস্ব বাজেট থাকা এ প্রকল্পকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বরেন্দ্র প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে ফের চালু করা হবে, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষ এর সুফল পাবে।

কৃষি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। উৎপাদন বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। এজন্য প্রত্যেক কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক ও ব্যাংক ঋণসহ সব সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকদের হাতে দেওয়া হবে। এ সময় তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে ঘোষণা দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর আম উৎপাদনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এত বড় আম অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো আধুনিক হিমাগার নেই। কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে এবং আম সংরক্ষণের জন্য এ অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন করা হবে।

রাজশাহীর আইটি পার্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইটি পার্ক থাকলেও সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আইটি পার্ককে সচল করা হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি ভোকেশনাল ও প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করে তরুণ ও নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করা হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।

নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা দিলেই চলবে না, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এ লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশের মানুষ দেশেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়।

স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিশিরাতের নির্বাচন ও গায়েবি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সুযোগ। এজন্য সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে যেমন ধর্মের বিভেদ ছিল না, তেমনি দেশ গড়ার সময়ও ধর্ম নয়—বাংলাদেশি পরিচয়ই হবে মুখ্য।

জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করলেই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া দেশ গড়েছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন—এখন আমাদের সবার পালা দেশ গড়ার।’

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোটেক শাহীন শওকত খালেক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন, নাটোর-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৫ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, চাঁপাইনাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ আমিনুল ইসলামসহ রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের ধানের প্রার্থীরা।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে তারেক রহমান একটি বিশেষ ফ্লাইটে রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর দরগা শরিফে যান। পৌনে ২টার দিকে তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানসহ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। তারেক রহমান জনসভায় যোগদানের আগেই রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাদ্রাসা ময়দান পরিপূর্ণ হওয়ার পর জনসভার জনস্রোতে আশপাশের রাস্তায় গড়ায়। আস্তে আস্তে পুরো রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাট জনসাধারণে ভরে যায়।

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাজ হলো আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত এদের দেখে রাখা। ১৩ তারিখ থেকে এরা আপনাদের দেখে রাখবেন।’

রাজশাহীর জনসভা শেষ করে তারেক রহমান বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নওগাঁর পথে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন। সেখানে নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ধানের শীষের আট প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না: এটিএম মাঠে জনসভায় তারেক রহমান বলেন, জনগণ যার পাশে থাকে, কেউ তাকে আটকাতে পারে না। জনগণ পাশে ছিল বলেই বিএনপিকে কেউ আটকাতে পারেনি। বিএনপি আজ এ পর্যায়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। কাজেই আমার পরিকল্পনা বলেছি, এখন আপনাদের পরিকল্পনা ১২ তারিখে বিএনপিকে জয়ী করা।

তারেক রহমান বলেন, এখানে এসে শুনছি শুধু দাবি আর দাবি, এত দাবি থাকলে গত ১৭ বছরে কি হলো? এই ১৭ বছরে উন্নয়ন হয়নি? আমরা যেহেতু এ দেশেই থাকব, কাজেই আমাদেরই এ দেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্লেনে চড়ে আমাদের তো আর হুট করে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে নির্বাচন করা তিন ছাত্রনেতাকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার নির্দেশনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। মাদ্রাসা ময়দানের জনসভামঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই তিন ছাত্রদল নেতাকে এ নির্দেশনা দেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন রাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রদল প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া শেখ নুর উদ্দিন আবীর, জিএস পদে নির্বাচন করা নাফিউল জীবন ও এজিএস পদে লড়াই করা জাহিন বিশ্বাস এষা।

তারেক রহমান তাদের বলেন, ‘তোমরা তরুণ ছাত্রসমাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে। মানবিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করবে।’

নওগাঁ থেকে তারেক রহমান যান বগুড়ায়। রাত ৮টার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরও একটি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। জনসভা শেষে বগুড়ার হোটেল নাজ গার্ডেনে যান বিএনপি চেয়ারম্যান।

নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপনের পর আজ শুক্রবার তারেক রহমানের রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিকেল পৌনে ৪টায় রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। রংপুরের জনসভা শেষে তার ফের বগুড়ার নাজ গার্ডেনে যাওয়ার কথা। সেখানে যাত্রীযাপন শেষে আগামীকাল শনিবার দুপুর ২টায় সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করবেন। সেখান থেকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে প্রত্যাবর্তনের কথা।

এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে নির্বাচনী প্রচারাভিযান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ১৯টি নির্বাচনী জনসভা করেছেন।